হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামিকে সভাপতি ঘোষণা: পিএমখালীতে ছাত্রদলের রাজনীতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে আলোচিত মোরশেদ আলী ওরফে মোরশেদ বলি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আব্দুল আজিজকে সম্প্রতি ছাত্রদলের একটি ইউনিট কমিটিতে সভাপতি ঘোষণা করায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যা ও অস্ত্র মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে ছাত্র রাজনীতির শীর্ষ পদে বসানো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এই পদ পাওয়ার পেছনে কী ধরনের লেনদেন বা প্রভাব খাটানো হয়েছে।

২০২২ সালে পিএমখালী ইউনিয়নে মোরশেদ বলিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৬ জনকে আসামি করা হয়, যাদের মধ্যে আব্দুল আজিজ অন্যতম। মামলার শুরু থেকেই নিহতের পরিবার অভিযোগ করে আসছে, আসামিরা জামিনে বের হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে এবং নানাভাবে ভয়ভীতি ও আধিপত্য দেখাচ্ছে। আব্দুল আজিজের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আব্দুল আজিজকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মিছিলে প্রকাশ্যে প্রথম সারিতে দেখা যায়। স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নিজের বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলার বিষয়টি আড়াল করার কৌশল। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত দেখাতে থাকেন।

এরই মধ্যে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পিএমখালী এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে আব্দুল আজিজ সরাসরি অস্ত্রসহ আটক হন। অভিযানে তারসহ কয়েকজনের কাছ থেকে দেশি ও বিদেশি পিস্তল, একশট গান, এলজি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনা পুরো এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই আবার তাকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।

এমন প্রেক্ষাপটে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আব্দুল আজিজকে সভাপতি করার বিষয়টি সাধারণ মানুষকে হতবাক করেছে। এলাকাবাসীর মধ্যে প্রকাশ্যে আলোচনা চলছে হত্যা ও অস্ত্র মামলার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্বে আসতে পারেন। অনেকের ধারণা, এই পদ পাওয়ার পেছনে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন অথবা প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া কাজ করেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আব্দুল আজিজ দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। তারা বলছেন, ছাত্র রাজনীতি আদর্শ ও নৈতিকতার জায়গা হলেও এখানে একজন আত্মঘাতী চরিত্রের মানুষকে নেতৃত্বে বসানো হয়েছে, যা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এতে তৃণমূলের সাধারণ ছাত্রকর্মীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে।

নিহত মোরশেদ বলির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, হত্যাকারীরা এখনো এলাকায় দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করছে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা হারাতে বসেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনে থেকেও আসামিরা রাজনৈতিক ব্যানারে নিজেদের নিরাপদ করছে।

পিএমখালীর সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অপরাধীদের জন্য রাজনীতিকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে। হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামিকে সভাপতি করার মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিকে অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

এলাকাবাসী দ্রুত এই বিতর্কিত কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে এবং ছাত্র রাজনীতিকে অপরাধমুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url