একরামকে হত্যার পর তার সম্পত্তি কৌশলে আত্মসাৎ করেছিল বদি'
টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের পেছনে তৎকালীন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির পরিকল্পিত ভূমিকা এবং সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, বহুল আলোচিত একরাম হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে আটক থাকা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “বদিউর রহমান বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই এ ঘটনা ঘটেছিল। একরাম ছিল তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। একরামকে হত্যার পর তার সম্পত্তি বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়। এই ঘটনার নেপথ্য নায়ক ছিলেন বদি।”
তিনি আরও জানান, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি, ডিজিটাল আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ প্রযোজ্য হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের নোয়াখালীপাড়ায় র্যাবের কথিত মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. একরামুল হক। ঘটনার পর প্রকাশিত একটি অডিও রেকর্ডে স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথোপকথন, গুলির শব্দ এবং গোঙানির আওয়াজ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ওই অডিও রেকর্ডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালিত হয়েছে। প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বিবিসি বাংলাকে জানান, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মকর্তার কণ্ঠ শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানে অংশ নেওয়া একজন সদস্যও তদন্তে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
২০২৫ সালে একরামুল হকের স্ত্রী আয়শা বেগম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির প্রত্যক্ষ ইন্ধনে র্যাব ও ডিজিএফআইয়ের সদস্যরা তার স্বামীকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন।
দ্রষ্টব্য: এ মামলার অভিযোগ ও প্রসিকিউশনের বক্তব্য বর্তমানে বিচারাধীন প্রক্রিয়ার অংশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।
.jpg)