তবে কি কক্সবাজারের সন্তানই পেতে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব?
![]() |
| সালাহউদ্দিন আহমদ |
বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী দলীয় মহাসচিবের পদ থেকেও সরে দাঁড়াবেন। এমন বাস্তবতায় স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে প্রশ্ন—বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন?
দলীয় অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সম্ভাব্যদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম।
আলোচনায় সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদকে যোগ্য মনে করছেন দলের অনেক নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক।
১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে প্রথমবারের মতো চকরিয়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। একই বছর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি বিসিএস ক্যাডার হিসেবে জনপ্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
পরবর্তীতে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং সর্বশেষ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
২০২৬ সালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি সরকারের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হওয়ার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলে বৃহস্পতিবার ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় সালাহউদ্দিন আহমদকে।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েই কি নতুন ইঙ্গিত?
রাজনৈতিক মহলে আলোচনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সালাহউদ্দিন আহমদের হাতে যাওয়া।
১৯৯১ সালের পর বিএনপি যখনই সরকার গঠন করেছে, তখন দলের মহাসচিবকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার একটি রাজনৈতিক রীতি দেখা গেছে বলে দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন।
সে কারণে সালাহউদ্দিন আহমদকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়াকে কেউ কেউ ভবিষ্যৎ মহাসচিব পদ নিয়ে একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
এর পাশাপাশি সংসদের ভেতরে ও বাইরে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্র হিসেবেও সক্রিয়। সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে।
দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য, গুমের শিকার হওয়া, প্রায় এক দশকের নির্বাসিত জীবন এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও তার পক্ষে বড় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিজভীর নামও জোরালোভাবে আলোচনায়
অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নামও রয়েছে আলোচনার শীর্ষে।
দলের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা রিজভীকে মহাসচিব পদে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবিদার মনে করছেন অনেকে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ীও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে মহাসচিবের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসছে।
রাজনৈতিক মহলে এমন গুঞ্জনও রয়েছে—রিজভীকে সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিয়ে পরবর্তীতে দ্রুত সময়ের মধ্যে দলের কাউন্সিল অধিবেশন আয়োজন করে নতুন মহাসচিব নির্বাচন করা হতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত কে মহাসচিব হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির হাতেই রয়েছে।
সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তারেক রহমানের ওপর?
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, সালাহউদ্দিন আহমদ মহাসচিব হন কিংবা না হন, বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় তিনি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। দলের ‘সেকেন্ড ম্যান’ হিসেবে তার ভূমিকা আরও জোরালো হচ্ছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন—সেটি অনেকটাই নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।
ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পরই পরিষ্কার হতে পারে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিবের চিত্র।
সালাহউদ্দিন আহমদ, নাকি রুহুল কবির রিজভী—শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব, এখন সেটিই রাজনৈতিক অঙ্গনের বড় প্রশ্ন।
