র্যাবের তদন্তে উঠে এলো ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে একাধিক নারী নির্যাতনের অভিযোগ
সাবেক টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের একাধিক অভিযোগের তথ্য র্যাবের তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং কারাগারের সাবেক এক মেডিকেল রাইটারের বক্তব্যে এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, টেকনাফে দায়িত্ব পালনকালে ওসি প্রদীপ ও তাঁর সহযোগীরা ইয়াবা কারবারের অভিযোগে বহু নারীকে আটক করে থানা বা অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যেতেন। পরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজন দাবি করেন, স্বজনদের মুক্তির আশ্বাস দিয়ে তাদের থানায় ডেকে এনে কয়েক দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। পরে অনেককে মাদক মামলায় আদালতে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার তদন্ত-পরবর্তী সময়ে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে কথিত বন্দুকযুদ্ধ, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। তবে সে সময় অধিকাংশ ভুক্তভোগী মামলা করতে সাহস পাননি বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।
কক্সবাজার জেলা কারাগারের সাবেক মেডিকেল রাইটার মো. ইউসুফের দাবি, কারাগারে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক নারী তাঁর কাছে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। তিনি জানান, গুরুতর শারীরিক অবস্থায় কয়েকজনকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল।
স্থানীয় সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিদের কয়েকজনও ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ শুনেছেন বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক পরিবার প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেনি।
কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ আবদুল মন্নান বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন সম্ভব। তাঁর মতে, ভুক্তভোগীরা মামলা না করলেও রাষ্ট্র চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে, সিনহা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাবের এএসপি খায়রুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, তদন্ত চলাকালে অনেক নারীর কাছ থেকে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেসব বিষয় অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত প্রয়োজন মনে করলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় বা পৃথক বিচারিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়।
(পার্বত্য নিউজ পত্রিকায় ৮ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে প্রকাশিত)
