২ মাসের কমিটি ৫ বছর পার: ছাত্রত্ব শেষ করে 'বাবা' হয়েছেন অনেকে, তবুও বদলায়নি রামু উপজেলা ছাত্রদল।
মাত্র দুই মাসের মধ্যে অধীনস্থ ইউনিয়ন কমিটিগুলো গঠন করার শর্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সরাসরি এই কমিটির অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু সেই দুই মাস যেন আজ ৬০ মাসে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে রামু উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি না হওয়ায় থমকে আছে সংগঠনের সাংগঠনিক গতিশীলতা। দীর্ঘ এই সময়ের ব্যবধানে পদধারী অনেক নেতার ছাত্রত্ব শেষ হয়ে এখন তারা পুরোদস্তুর সংসারী। অনেকে এখন সন্তানের বাবাও হয়েছেন, কিন্তু কাগজে-কলমে এখনো তারা রয়ে গেছেন উপজেলা ছাত্রদলের ‘ছাত্র’ নেতা।
জানা যায়, ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ সরাসরি ছানা উল্লাহ সেলিমকে আহ্বায়ক ও আবছার কামাল সিকদারকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্যের রামু উপজেলা কমিটি অনুমোদন দিয়েছিল। সেই সময় নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, দায়িত্ব পাওয়ার আগামী ২ মাসের মধ্যে সকল ইউনিয়ন কমিটি গঠন করে জেলা শাখার কাছে পাঠাতে হবে। কিন্তু দীর্ঘ ৫ বছর পার হয়ে গেলেও সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দুই মাসের অস্থায়ী কমিটি দিয়েই ৫ বছর পার করছে উপজেলা ছাত্রদল।
এদিকে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। জেলা কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আশা করেছিলেন, এবার হয়তো উপজেলা পর্যায়েও নতুন ও নিয়মিত ছাত্রদের সমন্বয়ে গতিশীল কমিটি আসবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় চরম হতাশায় ভুগছেন ত্যাগী কর্মীরা। অভিভাবকহীন এই অবস্থায় রামুর সাংগঠনিক কার্যক্রম দিন দিন ঝিমিয়ে পড়ছে।
দীর্ঘদিন নতুন কমিটি না হওয়ায় রামুর তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ৫ বছর আগে যারা ছাত্রনেতা ছিলেন, তাদের অনেকেরই এখন ছাত্রত্ব শেষ। অনেকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পারিবারিক জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, এমনকি অনেকের সন্তানরা এখন বড় হয়ে গেছে। তৃণমূলের কর্মীরা আক্ষেপ করে বলছেন, যাদের এখন সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার কথা, তারা এখনো ছাত্রদলের পদ দখল করে আছেন। এই স্থবিরতার কারণে নিয়মিত ছাত্ররা নেতৃত্বে আসার সুযোগ পাচ্ছেন না এবং যোগ্য কর্মীরা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। সাধারণ নেতা-কর্মীদের দাবি, দল পুনর্গঠনের এই সময়ে অবিলম্বে এই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নিয়মিত ছাত্রদের সমন্বয়ে নতুন ও সাহসী নেতৃত্ব গঠন করা হোক।
